ডুবে যাওয়া বাসের ৫০ যাত্রীর মধ্যে সাঁতরে তীরে উঠল ৭ জন
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রীসহ একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাত্র ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন বলে জানায় স্থানীয়রা।
ঘাট সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের বাসটি ফেরি পারাপারের জন্য ৩ নম্বর পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। ঠিক সেই সময় ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ছোট (ইউটিলিটি) ফেরি পন্টুনে ভেড়ার সময় সজোরে ধাক্কা দেয়। ফেরির সেই প্রচণ্ড ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই যাত্রীসহ গভীর পদ্মায় পড়ে যায়।
ঘাটের পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, সবকিছু চোখের সামনে ঘটে গেল! বাসটি একটি ফেরি মিস করে পরেরটির জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ হাসনা হেনা ফেরিটি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করলে বাসটি আর স্থির থাকতে পারেনি। বাসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিল।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থানরত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি শনাক্ত ও তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে রওয়ানা হয়েছে।
নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে ঘাটে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমেছে। নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে আছে। দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, বাসটি নদী থেকে টেনে তোলার জন্য সব ধরনের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

Comments
Post a Comment